আমাদের
দেশের
প্রেক্ষিতে চাকরি
পাওয়ার
মতো
কঠিন
কাজ
আর
নেই। তবে
এই
কঠিন
কাজেও
সফল
হচ্ছে
হাজার
হাজার
মানুষ। সঠিকভাবে এগিয়ে
গেলে
সফল
হতে
পারেন
আপনিও। পড়ালেখা শেষ
করে
বাড়ীতে
বসে
আছেন
বেকার
অবস্থায়। চাকরি
পাওয়ার
জন্য
দিয়েছেন অনেক
ইন্টারভিউ। কিন্তু
সফল
হতে
পারছেন
না
কোনোভাবেই। হয়ত
ভালো
ইন্টারভিউও দিয়েছেন কয়েক
জায়গায়,
তবে
ব্যর্থই হয়েছেন
বারবার। আপনি
হয়ত
ভাবছেন
'বৃথা
এ
চেষ্টা;
শত
চেষ্টা
করেও
যখন
চাকরি
জুটাতে
পারিনি,
এখন
আর
পারব
না।
জটিল,
অসম্ভব
জটিল,
আমার
দ্বারা
সম্ভব
হবে
না
কোনো
কাজই।'
আপনার
এ
নেতিবাচক চিন্তা
খুবই
অমূলক,
ক্ষতিকর, খুবই
ক্ষতিকর। বর্তমান বাজারে
চাকরি
নামক
সোনার
হরিণটা
অর্জন
করা
আসলেই
অসাধ্য
সাধনের
নামান্তর।
এ প্রসঙ্গে কবি জীবনানন্দ দাসের কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন 'পৃথিবীতে বিশুদ্ধ কোনো চাকরি নেই'। এ জন্য চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে হতে হবে কঠোর পরিশ্রমী, গতিশীল ও আত্মবিশ্বাসী। একবার হতাশ হয়ে পড়লে চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক এ বাজারে। ফলে দেখা যায় দীর্ঘদিন পর্যন্ত চাকরি খুঁজেও থাকতে হচ্ছে বেকার।
এ অবস্থা থেকে উঠে আসতে হলে চাকরি সন্ধানে নিজের উদ্যমকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। মাঝপথে হারিয়ে গেলে আপনি কখনও গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন না। কারণ মাথা ডুবিয়ে দিলে পানির ওপর বেশিক্ষণ ভেসে থাকা সম্ভব নয়। কাঙ্ক্ষিত চাকরি লাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে চাকরির সন্ধানে লেগে থাকা এবং মোটিভেট করা।
চাকরি সন্ধানকেও চাকরি মনে করুন
বেশিরভাগ মানুষ
চাকরি
সন্ধানকে একটি
অবসর
কর্ম
হিসেবে
নিয়ে
থাকেন।
সময়-সুযোগ হলে একটু
সন্ধান
করলেন,
নয়ত
হাত-পা গুটিয়ে বসে
থাকলেন। এভাবে
কী
সম্ভব
কোনো
ভালো
চাকরি
যোগানো? চাকরি
খুঁজে
বের
করাও
একটি
অন্যতম
চাকরি
হিসেবে
মনে
করে
আলাদাভাবে বাজেট
করে
প্রচুর
সময়
দিতে
হবে
তার
জন্য।
সপ্তাহের প্রতি
শুক্রবারে চাকরির
খবর,
চাকরির
বিজ্ঞাপন ইত্যাদি নামে
অনেক
পত্রিকা বের
হয়
যা
আপনি
পড়ে
দেখবেন
কোন
চাকরিটা আপনার
জন্য
উপযুক্ত। তাছাড়া
দৈনিক
পত্রিকাগুলোতে কিংবা
অনলাইনে আপনি
খুঁজতে
পারেন
চাকরি।
সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করুন
আপনি
কী
ধরনের
চাকরিটা করতে
চান
কিংবা
কোন
চাকরিটা আপনার
ভালো
লাগে,
তা
আগে-ভাগেই সিলেক্ট করুন
এবং
সেই
অনুযায়ী চাকরি
পাওয়ার
পরিকল্পনা নিয়ে
অগ্রসর
হোন।
আপনার
যোগ্যতার সঙ্গে
সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেত্রেই আপনার
সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে
সবচেয়ে
বেশি।
স্থিরকৃত নির্দিষ্ট লক্ষ্য
আপনার
চাকরি
সন্ধান
প্রক্রিয়াকে সহজ
করে
দেবে।
সুস্থ থাকুন
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে
চাকরির
ইন্টারভিউ দিতে
হলে
সুস্থ
ও
সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে
হবে
আপনাকে। নিয়মিত
ব্যায়াম করুন,
পরিমিত
পুষ্টিকর খাবার
খাওয়ার
পাশাপাশি পরিমিত
ঘুম
অত্যন্ত প্রয়োজন। চাকরি
সন্ধানজনিত শারীরিক ও
মানসিক
চাপ
কমানোর জন্য
রপ্ত
করুন
মেডিটেশন প্রক্রিয়া।
সহযোগী দল তৈরি করুন
যৌথপ্রয়াস সব
সময়
সাফল্যের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
একার
পক্ষে
যা
সম্ভব
নয়,
সমবেত
প্রচেষ্টায় তা
হয়ে
উঠে
সহজ।
আপনার
পরিচিত
বন্ধু
যারা
চাকরি
খুঁজছেন, তাদের
সাথে
যোগাযোগ রাখুন।
যারা
চাকরি
করছেন
তাদের
সঙ্গেও
যোগাযোগ রাখুন।
পরস্পর
সহযোগিতার হাত
সমপ্রসারিত করুন,
আদান-প্রদান করুন চাকরি
সংক্রান্ত তথ্যাবলী। প্রভাবশালী কেউ
যদি
আপনাকে
সাহায্য করতে
সক্ষম
বলে
মনে
করেন,
তার
সঙ্গে
ভালো
সম্পর্ক গড়ে
তুলুন,
তার
সঙ্গে
যোগাযোগ রাখুন
নিয়মিত। মনে
রাখবেন,
চাকরির
সুযোগের একটি
বিরাট
অংশ
পূরণ
হয়
যোগাযোগের মাধ্যমে।
অধ্যবসায়ী হোন
আত্মবিশ্বাসের সাথে
অধ্যবসায় করলে
পৃথিবীর অনেক
আসাধ্যকে সাধন,
অনিয়মকে নিয়মের
মধ্যে
আনা
যায়।
সম্ভবত
অধ্যবসায়ের সবচেয়ে
শ্রেষ্ঠ উদাহরণ
আব্রাহাম লিংকন,
যিনি
দারিদ্র্যের মাঝে
জন্মে
জীবনের
প্রতিটি ধাপে
পরাজয়ের শিকার
হয়েছিলেন। তিনি
আটটি
নির্বাচনে হেরেছিলেন, দুইবার
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে চরম
ব্যর্থ
হয়েছিলেন, এক
স্নায়বিক বৈকল্যে ভুগেছিলেন বহুদিন। সহজেই
এসব
ব্যর্থতায় তিনি
থেমে
যেতে
পারতেন। কিন্তু
তিনি
থেমে
যাননি
বরং
তিনি
আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম
শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে
আজ
অবধি
বিবেচিত হয়ে
রয়েছেন।
ধৈর্য্য ধারণ করুন
ধৈর্য্য ধারণ করুন
চাকরি
নামক
সোনার
হরিণটি
হাতের
মুঠোয়
আনতে
ধৈর্য্যধারণ অত্যন্ত প্রয়োজন। বিজ্ঞানী নিউটন
২০
বছর
পরিশ্রম করে
যে
বইটি
লিখেছিলেন, তার
প্রিয়
কুকুর
একটি
জ্বলন্ত বাতি
ফেলে
ঐ
বইখানি
মুহূর্তের মধ্যে
ছাই
করে
ফেলল।
সর্বনাশ হয়ে
গেল
২০
বছরের
অক্লান্ত সাধনা।
কিন্তু
অবম্ভব
সম্ভব
করার
মতোই
তিনি
পুনরায়
লিখে
ফেললেন
সেটি।
নিয়মিত পড়ালেখা করুন
পড়ালেখা না
করে
চাকরি
পাওয়াটা বেশ
কঠিন।
যে
বিষয়ে
আপনি
চাকরি
করতে
চান
সে
বিষয়ে
প্রচুর
পড়ালেখা করুন।
ইংরেজি
বাংলা,
গণিত,
বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও
আন্তর্জাতিক বিষয়ের
সাধারণজ্ঞানসহ সামপ্রতিক তথ্যাবলী আপনি
ভালোভাবে পড়তে
থাকুন।
তাছাড়া
রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক বিষয়ে
পড়ালেখাও চালিয়ে
যেতে
হবে
গুরুত্ব দিয়ে।
কম্পিউটারে দক্ষতা
ও
ইংরেজিতে কথাবার্তা বলা
জানলে
চাকরি
পাওয়া
অনেকটাই সহজ
হবে।
ইন্টারভিউকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন
জীবনে
অনেক
পরীক্ষা দিয়েছেন, অনেক
পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছেন,
হাজার
মার্কসের পরীক্ষাও দিয়েছেন। কিন্তু
ইন্টারভিউ হলো
এসবের
মধ্যে
অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ, বৈচিত্র্যময় এবং
কঠিন
প্রক্রিয়া। কোনো
চাকরির
জন্য
১০টি
পোস্টের বিপরীতে ৫০
হাজার
প্রার্থী থাকতে
পারে।
তাই
সেটা
আপনার
জন্য
চ্যালেঞ্জ হয়ে
আসবে,
তাতে
সন্দেহ
নেই।ইন্টারভিউকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করুন
জীবনে সফল যারা, তাদের অনেকেরই সাফল্যের মূলমন্ত্র হচ্ছে 'আত্মবিশ্বাসের সাথে লেগে থাকা, লেগে থাকা এবং লেগে থাকা।' তাই নিজের উপর বিশ্বাস হারাবেন না, অহেতুক সময় নষ্ট করবেন না। নিজেকে বুঝান কীভাবে সফল হতে পারবেন। সেইভাবেই এগিয়ে যান সামনের দিকে। চাকরি পাওয়ার সংগ্রামে লেগে পড়ুন কোমর বেঁধে, সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সাথে। আর সেটা পারলেই মিলবে সাফল্য, হাতের মুঠোয় ধরা দেবে চাকরি নামের সোনার হরিণ।মূল লেখা এখানে